Posts

Showing posts from April, 2025

নির্জন দ্বীপে একলা আমি - অর্ক আশফাক

Image
  নির্জন দ্বীপে একলা আমি - অর্ক আশফাক দূর কোনো সাগরছোঁয়া  নির্জন দ্বীপে একলা আমি, শুধু আমি... — নিরালায় এক নামহীন পুরুষ। শান্ত জলরাশি, আকাশের ফেনায় উঠা মেঘ, সব আমার, অথচ কেউ নেই - যে আমায় ডাকতে পারে - “তুমি”। সাগরের গর্জন আমার একমাত্র সঙ্গী, তবুও একঘেয়ে নয় —ওতে আছে জীবনের শব্দ। বালির ওপর বসে কল্পনায় আঁকি এক নারী, যে আসবে—আমার নিঃসঙ্গ হৃদয়ের দিকে। আমি সন্যাসী নই,  তবে পালিয়েছি কোলাহল থেকে, গ্রাম, শহর, সংসার, অলস হাসি, আর সব ঠগবাজির দল হতে। থাকিনি হেরে,  তবুও বিদায় জানাইনি বাঁচতে চাওয়ার ইচ্ছেকে, জীবনের প্রতি আমার প্রেম এখনও জীবিত, যদিও শরীরের উত্তাপ জলে ভিজে নিঃশেষ হয় প্রতিরাতে। প্রতিটি সকালে ঘুম ভাঙে এক নতুন অভিপ্রায়ে, হয়তো আজ কিছু আসবে — কোনো নৌকা জীবনের প্রত্যেক উত্থান পতনে হোক সড়কে না হয় অলিতে গলিতে হয়তো আজ আসবে কোনো নারী। যার চোখে আমি খুঁজে পাবো হারানো আরেক “আমি”, যে ছিলো কোনো এক ছাদের নিচে, স্বপ্নে গড়া সংসারে; অথবা সৃষ্টিকর্তার মাটির ছাঁচে গড়নের অপেক্ষায়... এই দ্বীপে বসে আমি বেঁধেছি স্মৃতির খাঁচা, মা'র মুখ, বাবার কঠোর হাত,  বন্ধুর বিদ্রুপ, প্রথম প্রেমিক...

সমস্ত পথের গল্প - অর্ক আশফাক

Image
  সমস্ত পথের গল্প - অর্ক আশফাক একদিন আমরা সবাই হাঁটি — কেউ হাতে চাঁদ আঁকে, কেউ অন্ধকারের ভেতর খুঁজে ফেরে নিজের ছায়া। হাত ধরে যে প্রেম এসেছিল সে-ও শিখিয়ে দিয়েছে ছেড়ে যেতে হয়, মেঘের আড়ালে হারিয়ে ফেলতে হয় নিজের নাম। তবুও, ভোরের আগে শেষবারের মতো কেউ বলে — "থেকো," যেন সেই ছোট্ট শব্দের ভেতর বাঁচিয়ে রাখা যায় একটা সমুদ্র। আমরা জন্মাই — কিন্তু জন্মের চেয়েও বেশি, আমরা প্রতিদিন মরে যাই। চোখের ভেতর জমে থাকা স্বপ্নগুলোকে কবর দেই — কখনও নীরবে, কখনও বিষাদের উৎসবে। তারপর, আকাশের গায়ে আঁকি নতুন আশা — পাতলা, নড়বড়ে, ভঙ্গুর — তবু অদ্ভুত এক আলো নিয়ে জেগে থাকে সে। আমি নিজেকে প্রশ্ন করি — "আমি কে?" "কতটা পথ পেরোলে তবে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায়?" উত্তর আসে না, শুধু নীরবতা এসে বসে কাঁধের কাছে, মেঘের চিঠির মতো ফিসফিস করে — "তুমি আছো, এই তো যথেষ্ট।" পৃথিবী হেসে ওঠে, রোদ ফোটে, কখনও আবার ঝড় নামে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় সব। আমরা তবুও এগিয়ে যাই — ভালোবাসি, হারাই, গড়ে উঠি, ভেঙে পড়ি, আবার দাঁড়াই। এভাবেই, সমস্ত পথের গল্প জড়িয়ে থাকে আমাদের চোখের ভেতর — একটু প্রেম,...

তারাদের সাথে - অর্ক আশফাক

Image
  তারাদের সাথে - অর্ক আশফাক রাতের আকাশে, তুমি আর আমি, চোখে চোখ রাখি, হারিয়ে যাই, আলোর নদীতে, ভাসে আমাদের ছায়া, তারাদের সাথে, স্বপ্ন বুনাই। চলো হারিয়ে যাই, দূরের ওই তারা, ভয় নেই কিছু, তুমি আছো যেথায়, মুঠোয় ধরা স্বপ্ন, উড়িয়ে দিই বাতাসে, ভোর হলে বলবো, থেকো পাশে। ও তারারা, বলো আমায়, কীভাবে থাকি তার চোখের ছায়ায়? ও আকাশ, দাও আমায়, তাকেই জড়িয়ে হারিয়ে যাই। চলে যাই দূরে, রাতের পাতায়, কথা জমে থাকে, চুপচাপ হাওয়ায়, তুমি আর আমি, হারিয়ে আবার, নতুন গল্প লিখি তারাদের ভাষায়। ও তারারা, বলো আমায়, কীভাবে থাকি তার চোখের ছায়ায়? ও আকাশ, দাও আমায়, তাকেই জড়িয়ে হারিয়ে যাই।

কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় স্মৃতির রঙ - অর্ক আশফাক

Image
  কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় স্মৃতির রঙ - অর্ক আশফাক চারপাশে তাকালে দেখতে পাবে— শহরের রাস্তাগুলোয়, নানান অলি-গলিতে, হোক শুকনো ডালের সঙ্গে কিংবা সবুজ পাতাসহ, লাল আগুনের মত ফুটে উঠেছে কৃষ্ণচূড়া! প্রতিটি কৃষ্ণচূড়া তাই শুধুই একটি গাছ নয় — এগুলো একেকটি স্মৃতি, একটি ঋতুবদলের চিহ্ন, প্রত্যেকটি যেন কোন পুরাতন গল্প, কিংবা যেন কারও না বলা গল্পের আবরণ! কৃষ্ণচূড়া ফুল যেন এক নীরব কবিতা — ঝলসে ওঠা পাঁপড়ির ভেতরে লুকিয়ে থাকে ফেলে আসা দিনের আলোছায়া। তার লালিমা শুধু ঋতুর রঙ নয়, একান্ত অনুভবের প্রতিচ্ছবি। যে ফুল শহরের ক্লান্ত ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে শেখায়, পুরোনো চিঠির মত মনে করিয়ে দেয় মনের গহিনে লুকোনো অনুচ্চারিত কথাকে। এই যে বসন্তের গোধূলি, এখানেই জমে থাকে কিছু না বলা ভালোবাসা, কিছু ফেলে আসা পথ, আর কিছু চিরকাল অপরিচিত রয়ে যাওয়া মানুষ। তবুও, প্রতিবার বসন্ত এলেই কৃষ্ণচূড়া ফিরে আসে— নতুন পাতায়, নতুন রঙে, তবুও বয়ে আনে সেই চিরচেনা অতীতের গন্ধ। হয়তো কেউ দাঁড়ায় গাছটার ছায়ায়, ক্লান্ত দুপুরে একটুখানি আশ্রয়ের খোঁজে, কিন্তু অজান্তেই চোখে ভেসে ওঠে কোনো হারিয়ে যাওয়া মুখ, অথবা কোনো অসমাপ্ত সংলাপের ধ্বনি। এই ফ...

ফিলিস্তিনের কান্না - অর্ক আশফাক

Image
  ফিলিস্তিনের কান্না - অর্ক আশফাক আযানের আওয়াজ এলো কানে আল্লাহু আকবার, হঠাৎই শুনি ত্রাহি আর্তনাদ, বোমাবর্ষণের বিকট বিস্ফোরণ! যারা মানেনি রমজান, তারা কি মানে নামাজের সময়? পায়নি যে ছাড় বাচ্চা-শিশুও, যারা বোঝেইনা মৃত্যুভয়! ইজরায়েলের ইহলোকপ্রীতি তোদের বাঁচতে নাহি দিলো, মোদের মুখবন্ধ, ভীতি, কূটনীতি, কথা কইতে নাহি এলো! যারা পরাশক্তি, তারাই দেখি চুপটি করে রহে; মোরাও অভিশাপে ডুবি, প্রাণভয়ে কিচ্ছুটি না কহে! হাসপাতালে, বাড়িতে, মেরেছে লাখো আবালবৃদ্ধবনিতা, ৮০ বছর হতে কতটুকু আছে বাকি, জানো কি তা?? তোমরা (ফিলিস্তিনবাসী) বীর, অকুতোভয়, শহীদ,  টুকরো হয়ে উড়তে থাকো জান্নাতের দিকে; আর মোরা? ভীতু, অথর্ব, জড়-পদার্থ স্বরূপ - পুড়তে থাকি আজাবে, নিজ নিজ কর্মফলে!

ভালোবাসা পেলে আমি ঝর্ণা হয়ে যাই – অর্ক আশফাক

Image
ভালোবাসা পেলে আমি ঝর্ণা হয়ে যাই                                        – অর্ক আশফাক আমি একটা কঠিন পাহাড়ের মতো যার চূড়ার খুব কাছে আকাশ, যেথা কোন কষ্ঠস্বরই পৌঁছায় না - চুপচাপ, সেসব মূর্চ্ছনা হারিয়ে যায় অবশেষে। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য এককভাবে বেড়ে ওঠা পাহাড়ের নিচেই রয়েছে বিপুলা পৃথিবী, গহন অরণ্য! সে অরণ্য পার হলেই পাবে শুধু রুক্ষতা, শূন্যতা, তিক্ততা! শুধুই আমি সেগুলোর মধ্যে বিদ্যমান! হাজার বছরের ব্যর্থ‌তার গ্লানি, অগণিত দিনরাতের মানহানির নালিশ, না পাওয়া সকল ভালবাসার রিক্ত আর্তনাদ, বুনো রাতজাগা রক্তাভ চোখের চাহনি... যা বলে দেবে— যেন কোন সামঞ্জস্য জীবনের চাওয়া, না পাওয়া, ভালবাসা শূন্য হৃদয়ের ব্যক্ত নিঃসঙ্গ আকুলতা, যেমন দুঃখের আঁধারে আমি প্রায়শই হারিয়ে যাই! মন তবুও চায় অপ্রতুল ভালবাসা ভালোবাসা পেলে আমি ঝর্ণা হয়ে যাই! তবুও বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকি অবিচল, ধূলোমাখা দেহে জমাই বিষাদ জল; আকাশ ছুঁতে গিয়ে হারাই নিরবধি, তপ্ত রোদে জ্বলি, ঝরে যাই ধুলোমাখা ধ্বংসে; নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় ঢেকে যাই অন্ধকার আঁচ...