প্রত্যাশার ভারে নুয়ে পড়া একটি জীবনরেখা - অর্ক আশফাক

 


প্রত্যাশার ভারে নুয়ে পড়া একটি জীবনরেখা

- অর্ক আশফাক


এক সময় তাকে শেখানো হয়েছিল—১৮ বছরের আগে বিয়ে করা অনুচিত। শারীরিক জটিলতা, মানসিক অস্থিরতা, দাম্পত্যে বোঝাপড়ার অভাব—এসবই নাকি নিশ্চিত ফল। তাকে বোঝানো হয়েছিল, আগে মানুষ হতে হবে, তারপর বিয়ের কথা ভাবা যাবে।


তবে আশ্চর্যের বিষয়, সেই বয়সেই দেখা গেল স্কুল পালিয়ে, কলেজ ড্রেসে পার্কের বেঞ্চে ঝালমুড়ি হাতে “নিষ্পাপ প্রেম” সমাজের সহানুভূতি পায়, কেউ তেমন আপত্তি করে না। যেনো প্রেমের স্বাধীনতা ও বিয়ের পরিণতি—দুইয়ের মাপকাঠি ভিন্ন।


গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করার আগে বিয়ের কথা বললে বলা হলো, "না, আগে উচ্চশিক্ষা। অন্তত মাস্টার্স করো।" 

মাস্টার্সও শেষ হলো। 

তবু বিয়ে নয়। 

এখন জরুরি একটি ভালো চাকরি, তারপর বিয়ে।


চাকরি পেল সে। 

প্রথম স্যালারি, প্রথম স্বপ্ন।

কিন্তু স্যালারি কম বলে পাত্রী হতে পারল না—যোগ্য, কিন্তু “সম্মানহীন”। 

বলা হলো, আর একটু অপেক্ষা করো।

স্যালারি বাড়ুক।


সময় কেটে যায়। 

পরিশ্রম আর মেধায় একদিন সে হয়ে ওঠে সফল। 

স্যালারি দ্বিগুণ, পদোন্নতিও হয়। 

এখন? 

হ্যাঁ, এখন তো বিয়ের উপযুক্ত সময়! কিন্তু তখন বয়স যে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫?


এবার পরিবারের চাওয়া—প্রতিষ্ঠিত, সুদর্শন, নিজস্ব ফ্ল্যাট ও গাড়িসহ পাত্র। এমন পাত্রের সন্ধান পাওয়া গেলেও দেখা গেল তারা অধিকাংশই বয়সে বড়, অনেকের অতীত জটিল, কিংবা অতীত সম্পর্কের ইতিহাস অস্বচ্ছ।


অন্যদিকে, সমবয়সী বা কমবয়সী ছেলেরা প্রতিষ্ঠিত নয়। আবার তাদের স্যালারি একজন উচ্চশিক্ষিত, প্রতিষ্ঠিত নারীর তুলনায় কম হওয়ায় গ্রহণযোগ্যতা হারায়।


ইসলাম সেই কারণেই ছোট থাকতেই বিয়েকে প্রাধান্য দেয়। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং ইচ্ছে থাকতেই বিয়ের দরকার আছে। বয়স থাকতেই কর্মঠ হতে পারলে সেটা পরবর্তী জীবনে কাজে দেবে বৈকি!

নাহলে?

ফলাফল হবে জঘন্য পরকীয়া বা কোনো বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। হোক সে লুকিয়ে কিংবা ওপেন নামক রিলেশনশিপ এর মোড়কে মোড়ানো! 

ইসলাম এর কোনো নিয়মই ফেলনা অথবা খামোখা নয়। প্রত্যেকটি নিয়মনীতি এর পেছনে যথেষ্ট এবং প্রয়োজনীয় কারণ আছে। 


ভিন্ন প্রক্ষাপটে দেখা যায় কেউ কেউ সফল হবার পূর্বেই বিয়ে করে আজ অনেক ভালো আছে। তাদের দেখা যায় নানান প্রকারের -

১. কেউ ভালো আছে, খুব সফল। সামাজিক, পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত ভাবে। 

২. কেউ আজও একসাথে আছে, সন্তানসহ সুখী জীবন কাটাচ্ছে। তবে সমাজের তথাগত সফলতা (!) আজও তাদের হাতে এসে পৌঁছেনি।

৩. কেউ কেউ আবার একসাথে ভালই আছে, তবে এখনও সন্তানহীন! 

৪. কেউ কেউ আবার ডিভোর্স করে ফেলেছে, ভালোবাসার মানুষ কিংবা পরিবারের পছন্দ তার জীবনের সাথে খাপ খেয়ে উঠতে পারেনি। 

৫. কারোর জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী আজ মৃত! নতুন করে বিয়ে করেছে, সন্তানসমেত ভালই আছে!

৬. কারোর জীবনসঙ্গী/জীবনসঙ্গিনী আজ মৃত! তবে নতুন করে বিয়েটা আর করা হয় উঠেনি!

আর এভাবে সময়ক্ষেপণেই এক সময়কার “১৮ বছরের কিশোরী” রূপ নেয় “৩৫ বছরের অপেক্ষমাণ নারী”তে। আর তখন একটা প্রশ্ন জাগে—যেসব সুশীল অভিভাবক, এনজিও কর্মী, শিক্ষক বা সমাজসেবকরা একসময় বিয়ের প্রতিটি সুযোগ আটকে দিয়ে “আলোকিত ভবিষ্যতের” স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, আজ তারা কোথায়?

কোথায় তারা আজ? 

তারা কেউ মৃত, আবার কেউ হয়তো বেঁচে আছেন, 

শুধু দৃশ্যপটে নেই। 

হয়তো এখন তারা নতুন কারও “ভবিষ্যৎ” গড়তে (!) ব্যস্ত!

নতুন কিশোরীদের জন্য তারা আবার সাজিয়ে চলেছেন সেই একই সনাতন পথ—যার শেষ প্রান্তে থাকে সমাজের দ্বিচারিতা, অতৃপ্তি, অসুখ, চিন্তায় বিভোর জীবন, আর রাশি রাশি প্রশ্ন!!

Comments

Popular posts from this blog

অপেক্ষার শেষ প্রহর - অর্ক আশফাক

সময়ের ঠেশে বেঁচে থাকা - অর্ক আশফাক

The Slow Ascend of Winter - Arko Ashfaque