প্রেম অথবা বিরহের উপাখ্যান - অর্ক আশফাক
প্রেম অথবা বিরহের উপাখ্যান
- অর্ক আশফাক
পহেলা বৈশাখ — রঙিন মেলা,
চারুকলার মোহন ছায়া,
চোখে পড়ে এক কিশোরী–রানী,
চরণ যেন বসন্ত-ছায়া।
কিশোর তখন নামহীন এক বাউল,
হৃদয়ে উঠেছে যাযাবর ঢেউ;
তরুণীর চোখে সে দিন দেখেছিল তরুণ,
আকাশ জোড়া নীলের উপচে পড়া ঢেউ।
পাঁচটি বছর ছিল সত্যিই এক স্বপ্নে মোড়া,
ভালোবাসা, রঙিন দুনিয়া আর প্রেমের ঘোর,
তারপর একদিন পড়ল সাতপাকে বাঁধা,
প্রেম... অবশেষে পেল বৈধ সঁজোড়।
রান্নাঘরে রুটি–রোদ্দুর,
চোখে ছিল তৃপ্তির রেখা,
বিছানায় ছিল অমল আনন্দ,
সীমাহীন শরীরী দেখা।
তবু সময় বড়ই নিষ্ঠুর
নিয়ে যায় যা ছিল চাওয়া পাওয়া,
স্ত্রী চাইল যশ খ্যাতি, সুউচ্চ প্রতিপত্তি ,
স্বামীর মনে ছিল শুধু ভালোবাসাই
যা ছিল তার সকল চাওয়া পাওয়া,
সেগুলোই ছিল তার নাওয়া খাওয়া দাওয়া
প্রেমিক হয়ে উঠলো পুরোনো চিঠি,
স্ত্রী পড়ে না - শুধু রেখে দেয় তাকে,
তার চোখে উঠলো লাল আলো,
পুরোনো ভালোবাসা পড়ে রইল সেই ফাঁকে!
অবশেষে এল বিভাজনের সই,
প্রেমের বুক ভাঙলো হিমবৃষ্টির ঢেউ;
স্ত্রী রূপী প্রেমিকা চললো নতুন স্বপ্ন চোখে,
স্বামী রূপী প্রেমিক থাকলো একা পড়ে পিছে।
যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন সাগরের পিছে —
সজোরে আছড়ে পড়ছে বিশাল ঢেউ।
মেয়েটি এখন মঞ্চে, আলোয় ঝলমলে,
স্বনির্ভর, পরিবার দ্বারা বেষ্টিত;
আর ছেলেটি আড়ালে—ছায়া, ধূলিমাখা,
বিরহে বয়সের ভার চেহারায় — স্পষ্টত!
মেয়ের সাফল্যের শহরে প্রাক্তনের নাম,
এখন শুধুই স্মৃতির কুয়াশা ঢাকা অতীত!
রূপকথা নয়, এ যেন অভিশাপ,
যেখানে রাজকন্যা হারায় পথ;
যে মানুষটি রাজা হতে চেয়েছিলো কেবল তারই,
আর তার সঙ্গিনী চেয়েছিল সিংহাসনের সওদা-মত।
আমিই সেই প্রেমিক,
যে আজও খোঁজে তোমার কোমল গন্ধ,
যার ঠোঁটে এখনও জেগে ওঠে
তোমার প্রথম স্পর্শ, প্রথম চুমুর সন্ধ।
তবু একেক রাতে হঠাৎ জেগে উঠি,
ঘামে ভেজা বালিশে তোমারই নাম খুঁজি,
সেই পুরোনো বিছানায় আজ কেবল আমি,
আর স্মৃতিরা — চুপচাপ, নিঃশব্দ দুঃখে বুঝি।
কখনো ভুল করে দেখি তার শাড়ির ছায়া,
বারান্দার কোণায় দাঁড়িয়ে থাকা মুখ,
কিন্তু এগিয়ে গেলে—ওটা কেবল বাতাস,
যে বাতাস জানে আমার সমস্ত অসুখ।
তার হাতে শেষবার ধরার আগে,
চেয়েছিলাম চুপচাপ বলতে,
“তুই থাক না, এই জীবনটা খুবই ছোট,
ভালোবাসা দিয়েই পারি যদি গড়তে?”
সে কিছু বলেনি, শুধু চোখ ফিরিয়ে ছিল,
শব্দ ছিলো, কিন্তু সেই শব্দে ছিলো না মন,
আমার প্রেম তার সোনালী স্বপ্নের কাছে
ছিলো এক অপূর্ণ কবিতার প্রতিরূপ পঙ্ক্তিবন।
চুপচাপ হাজারো সিগারেট জ্বলে,
বোধ করি তার ঠোঁটের গন্ধ খুঁজি ধোঁয়ার ধারে,
আর ভাবি—ভুল করেছিলাম কিনা,
যে তাকে রেখেছিলাম হৃদয়ের অম্লান বারে।
ভবিষ্যতের নাম আমি এখন জানি,
– একা হাঁটা রাস্তা, কুয়াশায় ঢাকা,
কিছু স্মৃতি ঘাড়ে চেপে থাকে,
আর কিছু কামনা — অপ্রাপ্তির পাথর বাঁধা।
যদি একদিন ফের আসে সে কাঁপা কণ্ঠে,
বলতে, "সময় কি ফেরানো যায়?”
তবে আমি কাঁপা গলায় কেবল হাসব,
আমার হৃদয় আর তো অপেক্ষা করতে না চায়...
তুমি হও বিস্মৃত, নতুন জন্ম নাও,
তোমার পাওয়া নতুন শহরে;
আমি জেগে থাকি — সম্পূর্ণ একা,
নিরীহ প্রেমের টানে।
তুমি কি আদৌ জেগে থাকো?
আজও আমাদের অতীতের পানে?
আমি আজও জেগে থাকি
তোমার ভালোবাসা, বিরহ ,
অতীতের স্পর্শের নামে।
আমি সেই মানুষ, যাকে তুমি
একদিন "আমার স্বপ্ন" বলেছিলে,
যার কাঁধে মাথা রেখে
রাতভর বৃষ্টি শুনেছিলে।
সেই তুমি হারিয়ে গেছো সময়ের ফেরে,
তবু আমার মনে তুমি আছো আজও
— পহেলা বৈশাখের রঙিন ঘোরে।

Comments
Post a Comment