পুরুষ মানুষ দু প্রকার। - অর্ক আশফাক
পুরুষ মানুষ দু প্রকার।
এক প্রকারের পুরুষ কুকুরের মতো, আর আরেক প্রকারের পুরুষেরা হয়ে থাকে সিংহের মতন। এই কুকুর আর সিংহের মতো পুরুষদেরকে যত শীঘ্র সম্ভব পার্থক্য করতে পারলেই উত্তম।
কুকুর যখন কাউকে না চিনতে পারে, তখন ঘেউ ঘেউ করে। সেটা দেখে অনেকে ভয়ে না হলেও বিরক্তি থেকে বাঁচার জন্য সরে যায়। কুকুর যখন ক্ষেপে যায়, তখনও সে ঘেউ ঘেউ করে। তখন অনেকে কামড়ের ভয় পেয়ে সরে যায়, অনেকে কামড় খাবার আগেই ১৪টা ইনজেকশন নেবার ভয়ে দৌড় দেয়। আর যদি বা কখনও কামড় দিয়েও বসে, তো সেই কুকুরের কামড় বড়জোর অন্যকে আহত / অসুস্থ করে দেয়। খুব কম সময়ই সেটা লিথাল হয়ে থাকে।
উল্টোদিকে সিংহ যখন তখন কিন্তু গর্জন করে না। তাদের ধৈর্য্য, বিচক্ষণতা, সকল ক্ষেত্রেই কুকুরের থেকে ঊর্ধ্বে! ক্ষেত্রবিশেষে সিংহ গোঙানির মতন আওয়াজ করে স্থান ত্যাগ করে, কারণ সে ছোটো খাটো বিষয়ে মুখ নষ্ট করতে ইচ্ছুক নয়। তবে এমন অনেক সময় হয় (খুবই কম সময়) যে সিংহ ক্ষেপে গিয়ে কামড় দিয়ে বসে। সেই কামড় হয় বড় জ্বালাময়ী, লিথাল। সে কামড়ের উদ্দেশ্যই হয়ে থাকে জীবননাশ।
এখন আসুন আমার কিছু কথা বলা যাক...
আমি সহজে ক্ষেপি না, আর একবার ক্ষেপলে প্রথমেই চিল্লাচিল্লি করিনা! তবে ধীরে ধীরে যুক্তি খণ্ডাতে গিয়ে আমার গলার শব্দ চড়ে যায় বটে।
আর আমি যখন পুরোদমে চিল্লাচিল্লি করি, খুব কমসময়েই কেউ আমার সাথে তর্কে জিততে পারে। আমার ছোটবেলার বিতর্ক অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কাজ দেয়, এটা বলাই বাহুল্য!!
মেয়ে জাত মা বোন কন্যা স্ত্রী এর জাত বিধায় হাত উঠাতে পারিনি কখনো। তবে মেয়ে প্রহারের রেকর্ড না থাকলেও আমার কিন্তু পুরুষ প্রহারের অনেক অনেক রেকর্ড আছে। আমার যদি কোনো কারণে হাত উঠে যায়, বুঝতে হবে শুরুটা অন্য পক্ষ থেকেই করা হয়েছে, কারণ আমি প্রচণ্ড ক্ষেপে গেলে তখন প্রভোক করি, যাতে অন্য পক্ষেই ভুলটা করে বসে। আর যদি এই ভুলটা করে বসে, সেদিন সে/তারা খুব কম সময়ই ঘাড়ে মাথা নিয়ে সেই স্থান ত্যাগ করতে পারে!
You may ask why is that?
That simply enables me to feel justified to rightfully place a beating on them, which I know is also not proper thing to believe in, yet... You say what else to do to save yourself from a straight injustice known as beatdown???
আমার কিন্তু নেচার ভালো, কিন্তু আমি ক্ষেপলে ঠিক ততটাই বিপজ্জনক হয়ে পড়ি, যতটা একটা সিংহ মানুষের জন্য বিপজ্জনক। আর এর জন্য আমি মোটেও ক্ষমাপ্রার্থী নই, কারণ আমাকে কেউ ক্ষেপালে সেটা মোটেই আমার দোষ হতে পারে না। আমি বারবার তাকে সুযোগ দিবো, ছেড়ে দিবো, এরপরেও যদি সে আগুনে হাত দিতে চায়, তাহলে তার কি অক্ষত অবস্থায় বেঁচে থাকার দরকার আছে?
তবে হ্যা, যেদিন থেকে শুনলাম - "রাগ শয়তান থেকে আসে", সেদিন থেকে আমি নিজের রাগটা কমাতে, নিজেকে নমনীয় রাখতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এবং ৭০-৮০% সফলও হয়েছি বলা যায়। তবে এই ইসলামিক দিক নিয়ে ইদানিং চর্চা করার জন্য আমার নমনীয়তার কারণে যদি কেউ আমাকে কুকুর ভেবে ট্রিট করার মতো ভুল করে থাকেন, নানান ধরনের বদলের প্রতি আমার পজিটিভিটি / উইলিংনেস কে যদি আমার উইক পয়েন্ট ধরে নেন, আমি বলব যে শুধরে যান। কারণ আল্লাহ্ পাক আজওয়াজাল সকল মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আশরাফুল মাখলুকাতের রূপে, অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে। নিজেকে প্রমাণ করুন এই কুকুর সিংহের বাইরে মানুষ রূপে।
ইন শা আল্লাহ, আমরা সকলেই নিজেদের শ্রেষ্ঠ রূপেই প্রকাশিত হবো।

Comments
Post a Comment