জর্জরিত - অর্ক আশফাক

 


জর্জরিত

- অর্ক আশফাক


মাইগ্রেনের জ্বালায় জর্জরিত আরো একটা দিন গেলো!

কয়েকদিন পর পর আমার যেন কি হয়!!!

মাথায় কী যেন একটা কিলবিল করে! 

অদ্ভুত একটা অস্বস্তি শুরু হয়; কেমন যেন একটা অস্থিরতা!


কোনো কাজে মন বসে না, ক্ষুধা কেমন কম কম ঠেকে! 

একটাই কথা ঘুরপাক খায় কেবল, 

আর নয় কোনো সমঝোতা, এবার যে করেই হোক পারতেই হবে!


না, মোটেই সাংঘাতিক কিছু করার কথা বলছি না!

আর দশটা সুস্থ, সবল, টিপিকাল মস্তিষ্কের মতোই 

মনের চিন্তাগুলো ডালপালা মেলে দেয় নিউরন সেলের আকাশে!


আমি বলছি মানুষের অবচেতন মনের কিছু গল্পের কথা।

আশা আর স্বপ্ন নিয়ে, ব্যর্থতা কাটিয়ে বড় কিছু হবার স্বপ্ন দেখার কথা!

মনের ভেতরে ব্যর্থতায় কুড়ে খাওয়া একটা যন্ত্রণাদায়ক পোকার কথা, 

যা অনির্ণিত ভবিষ্যতের সকল সম্ভাবনা, সফলতা নিয়ে বিরক্ত ও চিন্তিত!


বলছি মানুষের নানান সম্পর্কের কথা...

সম্পর্ক আর সম্পর্কের মানুষের প্রতি ভালোবাসার কথা, 

তাদের জন্য ভালো কিছু করবার কিংবা অন্তত ভালো চাইবার কথা!


মনের অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, পেটি কম্পিটিশনকে এড়িয়ে,

সহানুভূতি আর মানবিক চিন্তায় চিন্তিত হয়ে, 

নিজেকে অন্যের স্থানে কল্পনা করে,

উপরওয়ালার সৃষ্টি রূপে তাঁকে মান্য করে, 

তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কিছু করা,

কে কি বলে করে তা তোয়াক্কা না করে, 

নিজের দিক থেকে ঠিক থেকে,

নিজের মতো করে অন্যের জন্য 

কিছু করার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা উপভোগ করার কথা!


আমি বলছিলাম সেই কথা,

যেখানে নিত্য নতুন রং বেরঙের শিক্ষা পাওয়া যায়,

নিজেকে নতুনভাবে জানতে, নতুন রূপে চিনতে পারা যায়!

যেখানে আছে ভুল বোঝার শিকার হবার কষ্ট, বেদনা,

যেথা নিজের ভুল পই পই করে বুঝতে পারা যায়, 

হতে হয় লজ্জিত, পেতে হয় করুণা, ভর্ৎসনা কিংবা 

হারিয়ে ফেলতে হয় জীবনের মূল্যবান দৃষ্টিকোণ বা মূল্যবোধ!


বলছিলাম সেই কথা,

যেখানে বলির পাঠা হতে হয় কারোর অন্যায়-লাঞ্ছনার বেদীতে! 

হতে হয় সহানুভূতিশীল হয়েও মানুষের রূঢ় আচরণের শিকার!

শিষ্টতা আর ভদ্রতায় মোড়ানো ব্যবহার যেখানে হয় ভূলন্ঠিত!

বক্রদৃষ্টি, হীনতার মুচকি হাসি, প্যাঁচালো ক্ষুরধার বুদ্ধির চাকুতে,

থাকে শুধু ফালি ফালি হয়ে কেটে যাবার অনুভূতি!


বলছিলাম এমন এক কথা,

যার সারমর্ম হয়ে দাঁড়ায় ভালোবাসা, আর প্রতারণা!

বিতাড়িত হতে হয় সত্য, কর্মনিষ্ঠ, স্পষ্টবক্তা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীকে!

আর তেলা মাথায় তেল ঘষে 

পছন্দের শীর্ষে আসে সর্প ন্যায় গিরগিটি!

পুরানো আমলে দুনিয়ায় চলত গায়ের জোর!

আর এখন? 

এখন চলে চাপার, তেলের আর টাকার জোর! 

কবে কাটবে গো তোমার এই ঘোর??


আমরা মানুষেরা বাঁচবই বা আর কয়দিন,

তবু মরণক্ষণ আসা পর্যন্ত চলতে থাকবে জীবনের গল্প!

ডাঙায় নাও ভেরায়ে রাখা না পর্যন্ত, পালে লাগাতে হবে হাওয়া,

বাইতে হবে দাঁড়, চলতে হবে নদীর ঢেউয়ের বিরুদ্ধে,

যতক্ষণ না প্রাণপাখি না বেরিয়ে যায়!


এমন কিছু করতে হবে জীবনে যাতে আখেরটাও গুছায়!

জীবনের শান্তি বিরাজ করে, আর পরজীবনও শান্তির হয়!


আহা যদি পারতাম,

গোটা দিন-রাত যদি অনুভূতির উর্ধ্বে গিয়ে,

হাত-পা ছড়িয়ে, শুয়ে বসে, কেবলমাত্র আড্ডা দিয়ে;

দুনিয়ার সকল কর্তব্য, দায়িত্ব কিংবা দায় লাটে উঠিয়ে,

খেয়ে-ঘুমিয়ে, সময় ভুলে নিশ্চিন্তে কাটাতে পারতাম... 

বলি হয়তো বুকের মধ্যে অনেকটা শান্তি পেতাম!!

Comments

Popular posts from this blog

সময়ের ঠেশে বেঁচে থাকা - অর্ক আশফাক

মুরুব্বিদের আশিস-ছায়া - অর্ক আশফাক

নেশার মতো সম্পর্ক - অর্ক আশফাক