জীবনের এই প্রান্তে এসেও - অর্ক আশফাক



জীবনের এই প্রান্তে এসেও একলা জীবন ছেলেটার... 

এটা কি অভিশাপ ? নাকি আশীর্বাদ ??

ছেলেটার অনেকটা সময় কিছু ভালবাসার মানুষ আর মুহূর্তের কথা চিন্তা করে মন প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠে লেলিহান শিখার মতন। কিছুটা সময়ের জন্যে হলেও রঙিন হয়ে উঠে মনের ধূসর হয়ে ওঠা অঞ্চলগুলো, যখন কিছু মানুষের কথা কিংবা অমর হয়ে থাকা কিছু স্মৃতির আলো জ্বেলে ওঠে ওই অন্ধকার ধূসর প্রকোষ্ঠ গুলোতে!

জীবনের এই প্রান্তে এসে কাজ ছাড়া নিজেকে কেমন যেন চিনতে পারেনা সে, খুবই অচেনা লাগে! যেটা হয়, বেশিদিন ছুটি পেলে কাজ বা অফিস ছাড়া বোরিং লাগতে শুরু করে! তবে সেটা হয় ঢাকায় থাকা কালীন। ঢাকার বাইরে গেলে বিভিন্ন কাজে বা ঘোরাঘুরিতে বোর হওয়ার সুযোগ মেলেনা। কিন্তু বাসায় বসে, কিংবা ঢাকার মধ্যে থাকলে, চিরাচরিত জ্যাম, আওয়াজ আর কর্তব্যের ভেতর ছেলেটা হাঁপিয়ে ওঠে বৈকি! তবে যখন অলস বসে থেকে নিজেকে সময় দেয়, কিংবা ঘুমিয়ে নিজেকে রিপেয়ার এবং রিচার্জ করে, ব্যায়াম করে নিজেকে ফিট ও সুস্থ রাখার চেষ্টা করে, তখন তার আর বোর লাগেনা। তখন মনে হয় ছেলেটা তো নিজের জন্য বাঁচছে। এইতো বেশ ভালো আছে। নিজেকে চিনছে, সময় দিচ্ছে, ধীরে ধীরে গড়ছে নিজেকে, বড় করছে; খুব ভালোই তো আছে!

সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে বন্ধুদের সাথে ভরপুর কোলাহল, মধ্যরাতে লং ড্রাইভ, জম্পেশ খাওয়াদাওয়া আর সারারাত্রি গল্পে খুব মেতে উঠে ছেলেটার সময়! খুব ভালো লাগে তখন তার এই একাকী জীবন! হয়তো তার মনেও পড়ে যায় কিছু সময়ের কথা! 

তবে সত্যি - কোনো পিছুটান নেই এখন কাউকে সময় দিতে পারছেনা বলে! কোনো অপরাধবোধ নেই, কখন কি করছে, কেন করছে, কে কি ভাববে বলে! মন শান্ত, এই জেনে যে কেউ রাগ করবেনা, ভুল বুঝবেনা, কিংবা মিথ্যা সন্দেহ করবেনা! বারবার জানতে চাইবেনা কি করছে, কোথায় আছে, কার সাথে আছে!

যদিও অনেকেই বলবে সকলে এক নয়, সব মানুষ একরকমের হয়না! 

কিন্তু বিশ্বাস করো, এগুলো না ছেলেটা দেখে এসেছে! সে জানে কোথায় কখন কি হবে, কি বলবে, কি ভাববে, কিই বা মনে করবে, কেমন করে সন্দেহ করবে কিংবা ভুল বুঝবে! এসবই না অভিনয়ের স্ক্রিপ্টের মতন সেট হয়ে আছে মনের ভেতর...

হ্যা, এটা ঠিক যে নিজের ভেতরে, হয়তো হৃদয়ে কিংবা মস্তিষ্কের কোন নিউরন সেলের ভেতরে খুব একাকীত্ব অনেক বছর ধরেই বাস করে চলেছে, কিন্তু তারপরেও কেন জানি ছেলেটার নিজেকে সুখী বলেই মনে হয়! 

এরকম লাগার কিংবা মনে হওয়ার কারণ কি? কারণ ওর কাছে এসবকিছুই এখন বড্ড হিপোক্রেসি লাগে!

এই যে সে এত কথা ভাবছে, কেন? কারণ তাকে ভাবতে বাধ্য করা হয়েছে। 

যদিও অনেকেই বলবে সকলে এক নয়, সব মানুষ একরকমের হয়না! 

কিন্তু তারপরেও ছেলেটার যখন যা ইচ্ছে হবে, তখন সেটা করা কি অন্যায়? যদি সেটা বেআইনী কিংবা ধর্ম পরিপন্থী না হয়? যদি সেটা সমাজ, পরিবার কিংবা এথিক্সের বিপরীতে না হয়? যেটা আরেকজন করে সেটা যদি করা ঠিক হয়ে থাকে, ছেলেটার তাতে যেমনই লাগুক না কেন, তাহলে ছেলেটার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হবেনা কেন?য দি ছেলেটার ক্ষেত্রেও ঠিক সমান না হয়ে থাকে, যা ছেলেটার সাথে হয়েছে, যদি সেটা ঠিক না হয়, তাহলে তো বলতেই হবে যে -

এটা হিপোক্রেসি ছাড়া আর কিছুই নয়!

তাই জীবনের এই প্রান্তে এসেও যদি এমন কিছু ওই প্রান্তে আসে যাতে ছেলেটা কিছু নতুনত্ব খুঁজে না পায়, না পায় কোনো অদ্ভূত সুর, ছন্দ, লয়, তাল কিংবা এক্কেবারে সোজা কথায় যাকে বলা চলে যদি সে খুঁজে না পায় "হিপোক্রেসি-লেস ভালোবাসা"; তবে এখনও বোধ করি একলা জীবনই ছেলেটা বেছে নিতে চায়! 

হেল! আমিও তাই চাইতাম!

আর এরকম লাগার কিংবা মনে হওয়ার কারণ কি?

কারণ, আজকাল আমরা বা আমাদের বলে আদৌ কিছুই থাকেনা, নেই। এখানে থাকে আমি আর তুমি, আলাদা দুটি স্বত্ব! দুজনের এই বিভেদ সরিয়ে নিজেকে চিনতে বা কিংবা আরেকজনকে চেনাতে গেলে হয়তো তুমিই নিজেকেই হারিয়ে ফেলবে, নইলে তুমি তাকে হারিয়ে যেতে বাধ্য করবে! যদিবা পাও তাহলে তো তুমি অনেক সৌভাগ্যবান! কারণ জীবনের এই প্রান্তে এসে এখনও এসব করতে/বুঝাতে যাবার ইচ্ছে কিংবা শক্তি থাকলেও, সেটা করবার উপযুক্ত কারণ না থাকলে আসলেই খুব কঠিন হয়ে পড়ে সেগুলো করা!

জীবনে ভালোবাসার খুব দরকার আছে বৈকি! 

কিন্তু তাই বলে এতটাও দরকার নেই যে নিজ স্বত্তাকে বিলিয়ে দিয়ে যে ভালোবাসা নিজের জীবনে আনবে, সেই একই ভালোবাসা যখন তোমাকে ঠকিয়ে যাবে, ছেড়ে যাবে, তখনও তার জন্য নি:স্বার্থ ভাবে করে যাবে। এতটাও নিঃস্বার্থ হওয়াটা কি ঠিক?

না, কোন ক্ষতি করবার কথা আমি বলছিনা! কোন রকমের প্রতিশোধ নেবার কথাও আমি বলছিনা! আমি বলছি না নিজেকে তিলে তিলে শেষ করার কথা! আমি বলছি নিজেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা! আমি বলছি সকল তিক্ততা ভুলে নিজেকে সফলতার পংক্তিতে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা! নিজের ব্যর্থতা ভুলে, সঙ্গীর কমতি মুছে নিজেকে সফল করে তোলার অবিরাম চেষ্টার ত্রুটি না রাখবার কথা!

জীবনে যে ভালোবাসা কোনরকম শর্ত ছাড়া প্রবেশ করবে, সেটাই হবে আসল, রঙিন, হিপোক্রেসি-লেস ভালোবাসা, হোক সেটা ভালোবাসাতেই আবদ্ধ কিংবা বিয়েতে রূপান্তরিত (অথবা জাস্ট হোক না কয়েকটা মুহূর্তের/ দিনের/ মাসের/বছরের)!

কারণ, জীবনের এই প্রান্তে এসেও একলা জীবন তাই হিপোক্রেসি ভালোবাসা বা সম্পর্ক থেকেও উত্তম! 

জীবনে ভালোবাসার খুব দরকার আছে বৈকি! তবে সেটা হোক বৃষ্টিতে ভেজা সোঁদা মাটির গন্ধের মত গভীর, গাঢ়, মানে একেবারে শেকড়ে গাঁথা কিছু!

সেটা হোক সেটা রামধনুর সাত রঙের মত, রঙিন এবং রৌদ্রে উদ্ভাসিত উজ্জ্বল! 

না না, কোনো বহুমুখী সাপের ন্যায় নয়!

জীবনের এই প্রান্তে এসে যে সম্পর্কের প্রয়োজন, তা হল সম্পূর্ণ শর্তবিহীন এবং পানির মত স্বচ্ছ!   

কি মনে হয়, এটা কি অভিশাপ ?? নাকি আশীর্বাদ ??

কি বলে তোমার অভিজ্ঞতা? জীবনের এই প্রান্তে এসে??

Comments

Popular posts from this blog

অপেক্ষার শেষ প্রহর - অর্ক আশফাক

সময়ের ঠেশে বেঁচে থাকা - অর্ক আশফাক

The Slow Ascend of Winter - Arko Ashfaque