একটি সম্পর্কের ইতিকথা - অর্ক আশফাক
একটা লেখা শুরু করেছি... "একটি সম্পর্কের ইতিকথা"।
তারই কিছু অংশবিশেষ...
এ যেন মনে হচ্ছে মরণের আগের মুহূর্ত বিশেষ, যেখানে আত্মার সাথে শরীরের বন্ধন ছিন্ন করা হচ্ছে, যেন শরীরের সকল ইন্দ্রিয়, অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং স্মৃতির সাথে আত্মা শেষবারের মত একটা ফাস্টফরোয়ার্ড-এ প্লে করে নিচ্ছে। ওই যে মৃত্যুর আগে চোখের সামনে মগজের সকল স্মৃতিগুলো শেষবারের মতো এক ঝিলিক মেরে ট্রেইলার দেখিয়ে নেয়না? ঠিক সেইরকম...
আমার মনে হচ্ছে জীবনের ঠিক শেষ প্রান্তে সমুদ্র পাড়ে আমি শুয়ে আছি, যখন তখন স্রোত ভেসে আসবে, আর আমার প্রাণহীন দেহটাকে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে নিবে!
আচ্ছা! বলতো তুমি আমার কি?
আসলে কি বলে তোমায় ডাকবো আমি?
তুমি আমার জীবনের কি ছিলে, কি হলে, তা আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিনা...
কি... জানো না? নাকি বলবে না?
এই যে বেঁচে থেকেও মারা যাবার মত অনুভূতি, এই কি তোমার স্বপ্ন ছিল?
আমি কিন্তু এই জীবন মানিনা। কিছুতেই না!
এই যে শুধুমাত্র নিশ্বাস নেবার মত ক্ষমতা কিন্তু তাতে নেই কোনো হাসি, কান্না, প্রেম, যন্ত্রণা, কষ্ট, ভালবাসা, রাগ, হিংসা, খুশি, সন্তুষ্টি, ক্ষোভ, লালসা, একে কি কোনো জীবন বলে? নাকি এ কোনো জীবন হলো?
বলো না তুমি কি আমার?
বলে যাও না কি চেয়েছিলে তুমি আমার কাছে?
আমার জীবনের কাছে?
তোমার কষ্টের সঞ্চার কি আমি করেছি?
নাকি তুমি আর ১০টা মানুষের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করে নিজের জীবনটাকে ছোট, অপ্রতুল, অবান্তর, ব্যর্থ প্রমাণ করে ভুল বুঝেই এই সুখের জীবন, সুখের সংসার আর ভালোবাসার ইতি ঘটালে?
যারা আসলেই ভালোবাসে, একে অপরের হতে চায়, একে অপরের জন্য বাঁচে, তারা কি এরকম করে হাল ছেড়ে দেয়?
এতটা ঠুনকো তোমার ভালোবাসা?
এতই হালকা তোমার ধৈর্যের পড়ত??
না, তা তো না!!! ব্যাপারটা অতি সন্দেহজনক, খুবই আশ্চর্য্যজনক ও বটে!
আমিও এর শেষ দেখে ছাড়বো! খতিয়ে দেখবো পুরো ব্যাপারটা।
আমাকে জানতেই হবে তুমি কেনো গেলে সব ছেড়ে ছুড়ে, নিজের বছরের পর বছরের কষ্ট, এত শখ আহ্লাদ করে গুছানো সংসার, সব ছেড়ে তুমি কিসের চাকচিক্য দেখে দূরে চলে গেলে?
একি তোমার চারিত্রিক স্খলন নাকি আমার অর্থনৈতিক ব্যর্থতা?
কারণ টা কি ছিল?
তোমার অসম্ভব দূরদৃষ্টি নাকি আমার সামাজিক পরিবেষ্টন তথা ঐতিহ্য?
না না! এর কারণ আমাকে জানতেই হবে!!!
না জানা পর্যন্ত আমার মাথার ভেতর যে দপ দপ করে প্রশ্ন গুলো আগুন ঢালছে, তা নেভানো যাবেনা...
যদি তুমি প্রেম কিংবা প্রেমের মধ্যকার বিরহ হতে, তবে না হয় আমি কবির সিং-এর মত সবশেষে তোমাকে গ্রহণ করতে পারতাম, কিন্তু যখন তুমি প্রেমের পরিপক্ক সময়ে অর্থাৎ আদর্শ সময়ে সম্পর্কের বন্ধন করলে, আর ঠিক যখন সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে খাপে খাপ বসে চলছিল, ঠিক তখনই সেটার অবসান করলে, কোনপ্রকার কারণ না দর্শিয়েই সকল যবনিকার পতন ঘটালে, তথা সকল বন্ধন ছিঁড়ে দূরের বাসিন্দা হলে, তখন আমার কিই বা করার থাকে, বলতে পারো?
শুধু সম্পর্কই নয় যা তুমি ছিন্ন করেছ, তুমি করেছ দুটি পরিবারকে আলাদা।
স্বামী স্ত্রী হলে শুধু ওরা দুজনেই নয়, আরো গোটা বিশেক সম্পর্ক তৈরি হয়, তা জানো তো?
আমি জানিনা তোমার কারণ কি ছিল...
তুমি কি কোনো পাপের শাস্তি দিচ্ছ নিজেকে যার জন্য আমার চোখের দিকে তাকাতে পারছো না?
নাকি আমাকেই শাস্তি দিতে কাজটি করলে?
না না আমি আর পারছিনা!
আমাকে জানতে হবে বৈকি সবকিছু, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে!!!

Comments
Post a Comment